জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো না জানানোয় কি আসলে কিছু আসে যায়? আমার সচেতন মন বারবার উত্তর দিয়ে যাচ্ছে কিচ্ছু আসে যায়না আর অবচেতন মন তাতে সায় না দিয়ে বলছে সে শুভেচ্ছা না জানালে আসে যায়! অবশ্যই আসে যায়, কেন জানাবে না? এতগুলো বছরেও তার কাছে জন্মদিনের শুভেচ্ছা না পাওয়াটা অদ্ভূতই বটে তবুও আমি খুশি এইযে এই বিশেষ দিনটায় তার সাথে দেখা হচ্ছে এইতো অনেক। এই দ্বন্দে মনোযোগ দেয়ার কোনো মানেই হয়না।

  • দেরী করে ফেললাম নাকি?

আনমনে ছিলাম চমকে তাকালাম আর তখনই আমার আরোও একবার মনে হলো রবীন্দ্রনাথ এই মুহুর্তটার জন্যই লিখেছিলেন, ” চাহিনু তাহার মুখপানে অনিমেষে বাজিল বুকে সুখের মতনই ব্যাথা “
নাহ আপনি দেরী করেন নি আমিই তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি বলে হাসলাম।

  • কি ব্যাপার আজ খুব খুশি মনে হচ্ছে?

আরে বাহ উনি সাহেব শুভেচ্ছা জানান নি বলে কি আর কেউ জানায় নি, তাকে বলতে ইচ্ছে করলো আমি এত্ত এত্ত শুভেচ্ছা আর সাথে উপহারও পেয়েছি, খুশি লাগবেনা কেনো! কিন্তু বলার সময় বলে ফেললাম উল্টোটা,
“কই নাতো! ” আমার নাকটাও বোধ করি ঈষৎ ফুলে উঠল জমা অভিমানে।

সে কি বুঝল কে জানে , তার গজদাঁত দেখানো হাসি দিয়ে বললো, চলো সামনে কোথাও চা খাই।

হুহ আমি চা খেতে চেয়েছি বুঝি! লাগবেনা আমার চা যাবোনা তোমার সাথে! আবারও দ্বন্দ মনে মনে তবে পা দুটো ঠিকই অনুসরন করছে তাকে। তার দিকে এখন আমি আর তাকাচ্ছি না আমার চোখ আটকে আছে রাস্তার পাশের ফুলের দোকানগুলোতে। কি সুন্দর ফুলগুলো, এই ছেলেটা একটা ফুল কিনে দিতেও তো পারতো আমাকে নাকি!

  • এইযে ম্যাডাম, আপনার যে অনেক ফুল পছন্দ আমি জানি কিন্তু কি হবে আপনাকে একটা ফুল কিনে দিয়ে কালই তো ঝরে যাবে। আমি আপনাকে ফুলের বাগান করে দিবো আপনি যখনই জানালা খুলবেন এত এত ফুল দেখতে পারবেন।

চোখ ভর্তি পানি নিয়ে আমি তাকালাম তার দিকে, আমার দমবদ্ধ লাগছে, আবারও….. বাজিল বুকে সুখের মতনই ব্যাথা!

Leave a comment

Trending

Design a site like this with WordPress.com
Get started